গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা-মেকারপাড়া এলাকায় কয়েক দিন ধরে ‘বাঘ’ সদৃশ একটি বন্যপ্রাণী ঘোরাফেরা করছে এমন দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যার পর চলাচল সীমিত করছেন অনেক বাসিন্দা। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজীপুর বাঘের আবাসস্থল নয়; ভিডিও ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী প্রাণীটি মেছো বিড়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এনামুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজমাওনা গ্রামের ফকির বাড়ি মসজিদ এলাকায় নামাজে যাওয়ার পথে তিনি দূর থেকে প্রাণীটিকে দেখতে পান। তাঁর দাবি, প্রাণীটির লেজ ছিল লম্বা এবং মাথা গোলাকার। তাঁর সামনে দিয়ে সেটি উত্তর দিকে চলে যায়। তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকাটিতে প্রাণীটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে এবং অনেকেই এর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি গত ১৯ তারিখ প্রাণীটিকে দেখেছেন। তাঁর দাবি, এর আগেও অনেকেই প্রাণীটিকে দেখেছেন এবং ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। বুধবার রাতে মেকারপাড়া এলাকায় প্রাণীটির পায়ের ছাপও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। প্রাণীটি নিজ চোখে দেখেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “স্বপ্নে দেখছি নাকি, ঘুমিয়ে দেখছি!”এটা বলতে পারি না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাঘের মতো দেখতে একটি প্রাণী দেখা যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কামরুন্নাহার সাঈদ বলেন, “ফেসবুকে এ ধরনের একাধিক পোস্ট দেখেছি। তবে আমি নিজে প্রাণীটিকে দেখিনি।”
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, “গাজীপুর বাঘের আবাসস্থল নয়। এখানে বাঘ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভিডিও ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী এটি মেছো বিড়াল হতে পারে। মেছো বিড়াল প্রকৃতির উপকারী প্রাণী এবং খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞার সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রাণীটি বাঘ কি না, তা নিশ্চিত না হলেও আতঙ্কের কারণে এলাকায় রাতের বেলা চলাচল কমে গেছে। প্রাণীটির পরিচয় নিশ্চিত করতে বন বিভাগের দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।