https://daynightbd.com


দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। মাঠজুড়ে অতিরিক্ত লম্বা ঘাস, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ক্রীড়া আয়োজনে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খেলার মাঠের বিভিন্ন অংশে ঘাস বড় হয়ে টাখনু ছাড়িয়ে গেছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচর্যা না করায় ফুটবল ও ক্রিকেটসহ যেকোনো খেলাধুলা পরিচালনায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ঘাস ও অসমান মাঠের কারণে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছর নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার জন্য কোনো স্থায়ী ও পরিকল্পিত পরিবেশ নেই। ক্রীড়া কার্যক্রম কেবল নির্দিষ্ট কিছু মৌসুম বা টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ। আবার অনেক সময় একাডেমিক পরীক্ষা বা ক্লাসের সময়ের সঙ্গে এসব আয়োজনের সমন্বয় না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে প্রায় চার মাস আগে শুরু হওয়া ‘আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এখনো শেষ না হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, দেড় মাস আগে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হলেও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এখনো ফাইনালের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেনি। তাছাড়া সাম্প্রতিক ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েক দফায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা টুর্নামেন্টের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দুর্বলতাকে দৃশ্যমান করেছে।
প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্রিকেট পিচটি যথাযথ পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। পিচ সংস্কারের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এছাড়া মাঠে কোনো ড্রেসিংরুম এবং পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিবেশ নিয়ে নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, “সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ক্রীড়া খাতে আমরা অনেক পিছিয়ে। ২০ বছরের পুরোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ইনডোর স্পোর্টস বা জিমনেসিয়ামের উপযুক্ত সুযোগ নেই। বর্ষাকালে মাঠের অবস্থা করুণ হয়ে পড়ে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁদের জন্য ক্রীড়া বৃত্তি, ডায়েট ভাতা এবং ইনজুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করি, মাননীয় উপাচার্য দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। খেলার পরিবেশ উন্নত হলে শিক্ষার্থীরা মোবাইল আসক্তি কমিয়ে মাঠমুখী হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন আগে ঘাস কাটা শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা স্থগিত করতে হয়। বৃষ্টি থামলে দ্রুততম সময়ে মাঠ প্রস্তুত করা হবে।”
টুর্নামেন্ট স্থগিত থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমরা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করতে চাই। বৃষ্টি থামলে আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইনাল খেলা মাঠে গড়াবে। তবে মাঠে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই খেলা ব্যাহত হয়, যা একটি বড় সমস্যা।”


