https://daynightbd.com


রাজধানীতে মিনি ট্রাক ড্রাইভারদের চোর সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বাসা বাড়ি ও দোকানের মালামাল পরিবহন করে। মালামাল পরিবহনের সময় তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা রেকি করে এবং সুবিধামতো জায়গায় চুরি করে। এদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তারা গত কয়েক মাসে ঢাকা মহানগরী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল, নারিকেল তেল, সাবান, শ্যাম্পু ও দামি ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেটসহ নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরি করেছে।
সম্প্রতি তারা একটি দোকান ও গোডাউন থেকে ১৪ লাখ টাকার সিগারেট চুরি করে লাপাত্তা হন। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। গত রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে মিনি ট্রাক ড্রাইভারদের চোর সিন্ডিকেটের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। তারা হলেন- রিফাত হাসান ভূঁইয়া, মো. নুর ইসলাম, রুবেল খা ও মনির মিয়া। এর মধ্যে গ্রেফতার রুবেলের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা ও একটি গণধর্ষণ মামলা রয়েছে। অন্যদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি বলছে, আসামিদের ধরতে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা অনুসরণ করা হয়েছে। এই রাস্তার দেড় শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেড়্গণ করে চার চোরকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২৮ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত যেকোনো সময় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদি আদর্শ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে সিরাজ মার্কেটের হাসান স্টোর নামে মুদি দোকান ও গোডাউন থেকে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের সিগারেট চুরি হয়। এ ঘটনায় ১ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন দোকান মালিক মো. ফিরোজ মিয়া। মামলার ছায়াতদন্তে নামে ডিবির গুলশান বিভাগ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একটি মিনিট্রাক শনাক্ত করা হয়। ওই মিনিট্রাকটি কালশী ফ্লাইওভার-খিলক্ষেত-কুড়িল ফ্লাইওভার-ক্যামব্রিয়ান কলেজ-মেরুল বাড্ডা ব্রিজ-মেরাদিয়া-ডেমরা স্টাফ কোয়াটার-সারুলিয়া-কাঁচপুর ব্রিজ-মদন চৌরাস্তা-বিসিক শিল্প নগরী মদন পর্যন্ত যায়। পরবর্তীতে কালশী ফ্লাইওভার থেকে বিসিক শিল্প নগরী মদন পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পথ অনুসরণ করা হয়।
এই রাস্তার প্রায় দেড় শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মিনি ট্র্যাক থেকে সিগারেট নামিয়ে রিকশায় করে নিয়ে যাওয়া রিক্সাওয়ালাকে খুঁজে বের করা হয়। রিক্সাওয়ালা চোরাইমালের ক্রেতা দোকানদার রিফাতকে শনাক্ত করে দেয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। রিফাতের তথ্যের ভিত্তিতে তার নারায়ণগঞ্জের বাসার আলমারি থেকে চোরাই সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে রিফাতের দেওয়া তথ্যে ও তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের রূপসী থেকে নুর ইসলাম, রুবেল ও মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে মনির জানায়, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ভেঙে নরসিংদীর বেলাবো থানার উজিলাবো গ্রামের একটি কুয়ায় ভেঙে ফেলে দিয়েছে। পরবর্তীতে কুয়ার ভেতর থেকে ডিভিআরের ভগ্নাংশ উদ্ধার করা হয়।
ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এস এম রেজাউল হক বলেন, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে একজন দোকানদার এবং তিনজন মিনি ট্রাক ড্রাইভার। এই চক্রে মোট ৫ জন জড়িত। বাসা বাড়ি ও দোকানের মালামাল পরিবহনের সময় তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা রেকি করে এবং সুবিধামতো জায়গায় চুরি করে। ২০১৮ সাল থেকে তারা এই পেশায় জড়িত।


