https://daynightbd.com


রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দ্বার বাবুবাজার সেতু এখন যেন স্থায়ী যানজটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সেতু ও আশপাশের এলাকায় লেগে থাকে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
বুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত বুড়িগঙ্গা সেতু-২, যা বাবুবাজার সেতু নামে পরিচিত, দক্ষিণবঙ্গের কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ। সেতুটির এক পাশে পুরান ঢাকার বাবুবাজার, নয়াবাজার ও ইসলামপুর; অপর পাশে কদমতুলি ও কেরানীগঞ্জ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সেতু দিয়ে চলাচল করে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা থেকে শুরু করে নয়াবাজার, তাঁতীবাজার হয়ে বংশাল পর্যন্ত যানজটের বিস্তার, যা প্রায় গুলিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় কর্মরত দিশারী পরিবহনের এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, “সকাল ৯টার পর থেকেই এ ব্রীজে জ্যাম শুরু হয়। অফিসে যেতে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়।”
মতিঝিলের একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, “এখানকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কিছুটা গাফিলতি রয়েছে। বাবুবাজার ও তাঁতীবাজার এলাকায় গাড়ি চেকিংয়ের নামে অযথা সময় নষ্ট হয়। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মালবাহী ট্রাক ও ব্যবসায়িক যান চলাচলের কারণেও জ্যাম সৃষ্টি হয়।”
কদমতুলি থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত চলাচলকারী এক বিআরটিসি বাস চালক বলেন, “মোটে ৪ কিলোমিটার পথ যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।”
অভিভাবকরা বলছেন, দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় গাড়ি না পেলে হেঁটে যেতে হয়।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা সর্বদা চেষ্টা করি যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সম্প্রতি বাবুবাজার থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সড়কে ডিভাইডার বসানো হয়েছে, এতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।”


