রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির ফলস্বরূপ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ-২০২৬ বিল পাস হয়েছে সংসদে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে এ বিল পাস করে জাতীয় সংসদ। বিল পাসের খবর শুনে খুশিতে মেতেছেন শিক্ষার্থীরা।
‎
‎ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আন্দোলন, কর্মসূচি ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া পেরিয়ে এ সফলতা পেয়েছে। এই দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল পেয়ে খুশিতে উন্মাতাল শিক্ষার্থীরা।
‎
‎শিক্ষার্থীদের ভাষ্য:
‎
‎কবি নজরুল সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (২৪-২৫) বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান আহমেদ নাঈম বলেন, ” সংসদে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়-২০২৬ অধ্যাদেশের বিল সংসদে পাস হয়েছে। এতে আমি অনেক আনন্দিত। দীর্ঘ সময় পরে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার পেয়েছি। এখন শুধু সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ আমাদের নামের পাশে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তেমনি পড়াশোনাটাও যাতে সেই মানের হয়।”
‎
‎একই বিভাগের লাহাব হোসাইন লাম বলেন, ” সংসদে ঢাকেবি এর বিল পাস হয়েছে। আজকে আমি এতটা খুশি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে কতটা কষ্ট করেছেন তা হাসপাতালে খোঁজ নিলে বোঝা যাবে। আমাদেরকে যারা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে রাখতে ঢাকেবির বিরোধিতা করেছে তারা আমাদের শত্রু।”
‎
‎সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইংরেজি (২১-২২) বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুজ্জামান নয়ন বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কারণ, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে যে যে সমস্যায় পড়েছি, আমাদের ছোট ভাই বোনরা যেন সেই সমস্যায় না পড়ে। আমি চাই আমাদেরকেও যেন ঢাকেবির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সফলতায় আমাদের অবদান অনেক কম ছিল। ঢাকেবি আন্দোলনের সমন্বয়ক ভাইদের শত বাধা থাকতেও আমাদের জন্য যে নিঃস্বার্থ কাজ করেছেন, আমরা তাদের অবদান কখনোই ভুলব না। এই ঢাকেবি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করেছে; আমি দোয়া করি তারা যেন কোনো না কোনো দিন আমাদের এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।”