গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না করায় মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত ডুবে গিয়ে একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, মাওনা চৌরাস্তা ও উড়ালসেতুর নিচে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। সামান্য আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ময়লা-আবর্জনামিশ্রিত পানিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। এছাড়া দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে খানাখন্দের আকার।
পানি জমে থাকায় চালকেরা সড়কের নিচে থাকা বড় গর্ত দেখতে পান না। এতে ইজিবাইক, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে বৃষ্টি শেষে মাওনা কাচামালের আড়ৎ এলাকা থেকে কাচামাল বোঝাই একটি অটোভ্যান গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে চালক আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি যানবাহনও আটকে পড়ছে।
কাচামালের ব্যবসায়ীরা জানান, মাওনা এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে বাড়ছে দুর্ভোগ ও ব্যয়। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
সরেজমিনে সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি থেমে গেলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলযট সৃষ্টি হয়েছে। উড়ালসেতুর নিচের অংশে বড় বড় গর্ত পানিতে তলিয়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
উল্টে যাওয়া অটোভ্যান চালক কাওছার আহমেদ বলেন, “পানির নিচে এত বড় গর্ত ছিল বুঝতে পারিনি। হঠাৎ চাকা পড়ে গাড়ি উল্টে যায়। আমি আহত হয়েছি, মালামালও নষ্ট হয়েছে।”
উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের কাছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হোক। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, “মাওনা চৌরাস্তার জলাবদ্ধতা ও সড়কের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”