পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কবি নজরুল সরকারি কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে আবাসন সংকট। নিজস্ব কোনো ছাত্রীনিবাস না থাকায় হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী পুরান ঢাকার মেসে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। সুস্থ পরিবেশ এবং নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও তাদের জন্য নেই কোনো আবাসিক হল। ফলে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের বাধ্য হয়ে মেসে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অধিকাংশ মেসে ছোট রুমে চার-পাঁচজন করে থাকতে হয়, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ। খাদ্য সমস্যা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে থাকতে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে শিক্ষার্থীদের শরীরে। আর্থিক সমস্যার কারণে রাজধানীতে থেকে নিয়মিত ক্লাস করতে পারছেন না অনেকেই। দীর্ঘদিনের এই আবাসন সমস্যা থেকে মুক্তি চায় শিক্ষার্থীরা।
‎
‎শিক্ষার্থীদের বক্তব্য:
‎রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের (২৪-২৫) মাহিয়া সারোয়ার বলেন, “ঢাকায় এসে মেসে থাকার অভিজ্ঞতা খুবই ভয়াবহ। ছোট একটি রুমে চারজন থাকি, যাতে পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ঢাকায় প্রথম এসে নতুন নতুন মানুষের সাথে থাকাটাও একজন ছাত্রীর জন্য অনিরাপদ। তাছাড়া অনেক ছাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে আসে, নতুন শহরে তাদের পরিচিত কেউ থাকে না, তাই নিরাপদে থাকার জন্য হল সবচেয়ে বড় ভরসা। বাইরে বাসা খোঁজা, খরচ সামলানো বা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে স্বাভাবিকভাবে পড়ালেখা চালানো কঠিন হয়ে যায়, যা হলে অনেকটাই সহজ হয়। পাশাপাশি হলে থাকলে পড়াশোনার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সহপাঠীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগও বেশি থাকে। আমাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি যোগদান করেছেন, আমার মতে তাঁর প্রথম কাজ ছাত্রী হল নির্মাণ থেকেই শুরু হওয়া উচিত।”
‎
‎সায়মা ইসলাম রাত্রী বলেন, “আমার বাসা ধানমন্ডিতে। ক্যাম্পাসে আসতে স্বাভাবিকভাবে ১ ঘণ্টা লাগলেও জ্যামে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। আর ক্যাম্পাসের পাশে রাজধানীতে আলাদা বাসা নিয়ে থাকাটা অনেক ব্যয়বহুল। মেসে খাবার সমস্যা, থাকার সমস্যা এবং পড়ালেখার পরিবেশ থাকে না। আমার বাসা দূরে হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারি না। অধিকাংশ সময়ে জ্যামের কারণে ক্লাসে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারি না। আমাদের কলেজে মেয়েদের জন্য কোনো হলের ব্যবস্থা নেই। এজন্য আমাদের অনেকেরই এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যারা গ্রাম থেকে প্রথম নতুন শহরে আসে তাদের তো আরও বেশি সমস্যা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েদের জন্য হল ব্যবস্থা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, সেক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য একটা হল আবশ্যক। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব মেয়েদের জন্য হলের ব্যবস্থা করা হোক।”
‎
‎আরিফা জাহান মিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হয় তা হলো অপরিচিত শহরে থাকার জায়গা। এছাড়া নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের রাজধানীতে থাকতে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে ঢাকায় থাকতে না পারায় আমার অনেক সহপাঠী নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে হল থাকলে এই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয় না। কবি নজরুল সরকারি কলেজ এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুটা হওয়া উচিত মেয়েদের হল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।”
‎
‎অধ্যক্ষের বক্তব্য:
‎এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেক পরিকল্পনা আছে কিন্তু জায়গার অভাবে সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে না জানালেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। অস্থায়ীভাবে হলের কোনো পরিকল্পনা নেই। আর কোথায়ই বা করব?”