জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেডিস অফ লিবার্টি অ্যালায়েন্স (LOLA)-এর যৌথ উদ্যোগে একটি নারী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সকাল ১০টা থেকে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত বিতর্ক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

প্রতিযোগিতায় মোট ৬টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য ছিলেন। যুক্তি, তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা ও বাগ্মিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। তুমুল হাড্ডাহাড্ডি বিতর্কের পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সক্রেটিস স্কোয়াড টিম এবং রানার্স আপ হয়েছে জেএমএসডিসি টিম।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডিএফআইআরের সাবেক সভাপতি মনিকা ইয়াসমিন, ডিবেটিং সোসাইটি অফ ইকোনমিক্সের সহ-সভাপতি তাবাসসুম রিচিকা, ডিএফআইআরের সহ-সভাপতি হুমায়রা আক্তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইজেশন (জুডো)-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুসরাত জাহান আনিকা।

LOLA থেকে উপস্থিত ছিলেন লিড (জেইউ চ্যাপ্টার) সানজিদা পারভিন, কো-লিড (জেইউ চ্যাপ্টার) প্রতীতি তৌফিক এবং কো-লিড (জেইউ চ্যাপ্টার) মাহাজাবীন আফরোজ।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিচারক ও ডিএফআইআরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মনিকা ইয়াসমিন বলেন, “LOLA ও ডিএফআইআর আয়োজিত এই নারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসে সত্যিই ভালো লাগছে। বাংলাদেশে নারীদের নিয়ে নানা আয়োজন হলেও, এখানে আয়োজন থেকে প্রতিযোগী—সব জায়গাতেই ছিল নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি। প্রতিটি মোশনই ছিল নারী-কেন্দ্রিক, যেখানে নারীর অবহেলা, লিঙ্গ বৈষম্যের কারণ এবং তৃণমূল বাস্তবতা সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন দেখিয়েছে নীতিনির্ধারণ ও সমাজ পরিবর্তনে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা কীভাবে নিজেদের উন্নয়ন করবে, দেশ ও বিশ্বপর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে—সেই অনুপ্রেরণাও এখানে রয়েছে। সব মিলিয়ে এটি ছিল সুস্থ, সুন্দর ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি আয়োজন। আয়োজকদের আন্তরিক শুভকামনা।”

এলওএলএ-এর লিড সানজিদা পারভিন বলেন, “লেডিস অফ লিবার্টি অ্যালায়েন্স সবসময় নারীদের সাফল্য ও অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। সেই ধারাবাহিকতায় নারী শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চা, নেতৃত্বগুণ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে নারীরা যুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”