https://daynightbd.com


দৌড়ের উপর টি স্টল। ছবি: এম এ মল্লিক সোহাগ
দৌড়ের উপর টি স্টল , একটি ব্যতিক্রমী চায়ের দোকানের নাম। এমন ব্যতিক্রম নামের চায়ের স্টলের সাইনবোর্ড দেখলেই মানুষ প্রথমেই থমকে যায়।
ঠিক এমনটায় জানালেন এই চায়ের দোকানের কর্ণধার, সাগর মিয়া। উত্তরা, রবিন্দ্রসরণী রোডে যাদের নিয়মিত যাতায়াত তারা সুযোগ পেলেই এই চা স্টলে দাড়িয়ে এককাপ চা খেতে ভুল করেন না।
চা খেতে খেতে ঠিক এমনটায় জানালেন তারিকুল ইসলাম তারেক নামের একজন চা প্রিয় ব্যক্তি।
সন্ধ্যা নামলেই এই চায়ের দোকানে , চা পিপাসু সকল বয়সের মানুষের ভিড় লেগে যায়। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১ টা অবধি সিরিয়াল মেইনটেইন করে চা খেতে হয় এখানে।
এখানে মানুষ কেন সিরিয়াল দিয়ে চা খেতে আসে, চলুন তা একটু জানার চেষ্টা করি….
প্রথমেই চা পিপাসু মানুষ জন আকৃষ্ট হয়, এই দোকানের চায়ের সব ব্যতিক্রম নামের জন্য ।
চায়ের দোকানের নাম টা যেমন ব্যতিক্রম , ঠিক চায়ের নাম গুলোও।
এখানে যে চা গুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম চায়ের নাম ,
১) বেঈমান
২) ভাবের থেকে ভঙ্গি বেশি
৩) মাইকার চিপা
৪)পিক-আপ লোন
৫) আশার গুড়ে বালি
৬) হালকার উপরে ঝাপসা
৭)বেপারোয়া
৮) হিসাব সোজা
৯) ব্রেক ফেল
১০) প্রথম ভালোবাসা , এছাড়াও এখানে প্রায় শতাধিক আইটেমের চা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন স্বাদের বাহারি পানও পাওয়া যায়।
এই নামের সাথে চায়ের কি ধরনের সম্পর্ক , এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয় দোকানের কর্ণধার সাগর মিয়ার সাথে ।

দৌড়ের উপর টি স্টল এর কর্ণধার সাগর মিয়া। ছবি: এম এ মল্লিক সোহাগ
উনি বললেন, উনার এই চায়ের ব্যবসা প্রায় ১৭/১৮ বছর আগের।
আগে ফুটপাতে দোকান করতেন, ফুটপাতে ব্যবসা করতে গিয়ে পুলিশের দৌড়ানি খেতে হত প্রায়ই, আবার স্থানীয় চাঁদাবাজ , মাস্তান সবার দৌড়ানি খেতে খেতে একটা সময় অভিমানে এই চায়ের দোকানের নাম দিয়েছেন দৌড়ের উপরে টি স্টল।
বেঈমান ,চায়ের নাম কেন জানতে চাইলে বলেন , চায়ের দোকান করতে করতে অনেক বড় বেঈমানী করেছে একজন তাই তেতুল , ঝাল মরিচ দিয়ে যে চা বানাই সেই চায়ের নাম সেই বেঈমান কে শ্রদ্ধা করে নাম দিছি বেঈমান।
ভাবের থেকে ভঙ্গি বেশি , এই চায়ের নাম দেয়ার কারণ হিসেবে উনি বলছেন দুনিয়া টায় চলছে ভাবের থেকে ভঙ্গি বেশি ,তাই মানুষের বাহিরের আর ভিতরের রুপ মিলাইয়া বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এই নাম দিছি।
তবে, চায়ের যে নাম গুলো উনি দিয়েছেন সব নাম এর এই পিছনে সাগর মিয়ার অনেক কষ্ট দু:খের গল্প আছে এমনটায় জানালেন উনি।
সাগর মিয়া হেসে বলেন, যত রাগ অভিমান বুকে জমা থাকুক না কেন নিজের হাতে কষ্ট করে এককাপ চা বানিয়ে যখন খাওয়ান চা পিপাসু মানুষেদের, তারপর যখন চায়ের প্রশংসা করেন সবাই তখন উনার সব দু:খ কষ্ট মুছে যায়।
সবশেষে সাগর মিয়ার চাওয়া , যেন সবাই একবার হলেও এসে উনার নিজের হাতে বানানো চা যেন খেয়ে যায় মানুষ জন।
উনি ঠিকানা টাও খুব সুন্দর করে বলে দিয়েছেন, রবীন্দ্রসরণী রোড ,সেক্টর ৭, উত্তরা,কাবাব ফ্যাক্টরির পাশেই।


